Saturday, February 25, 2017

আজ আমরা জানব ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করব এবং এর চাহিদা কত খানি?


একটি পণ্য বা সেবা তৈরির পর কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেটি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর এই কাজটি সহজে করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ভর করে থাকে বিজ্ঞাপনের উপর। বিজ্ঞাপনের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম হলো টিভি, রেডিও কিংবা বিভিন্ন সংবাদপত্র। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিজ্ঞাপন মাধ্যমেও এসেছে পরিবর্তন। বর্তমানে মানুষ টিভি কিংবা সংবাদপত্রের তুলনায় বেশি ব্যবহার করছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, আর এর সাথে ইন্টারনেট তো থাকছেই। মানুষের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি একটি বড় সময় কাটছে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফলে বিজ্ঞাপনদাতাদের চাহিদায়ও এসেছে পরিবর্তন। এখন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য তাদের পছন্দের শীর্ষে আছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গুগল, ইউটিউব, অ্যাপ প্রভৃতি। এক কথায় যা ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’ নামে পরিচিত।

স্বল্প বাজেটের বিজ্ঞাপনে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এবং নির্দিষ্ট ভোক্তা শ্রেনিকে লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় বলে বর্তমান সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে আগ্রহী হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি আছে প্রায় অর্ধশত। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ করে থাকেন। বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাজেন্সির সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মোট বিজ্ঞাপন বাজারের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দখল করে আছে ডিজিটাল মার্কেটিং।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ডিজিটাল মাধ্যম

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মাধ্যম। যেমন ফেসবুকের কথাই ধরা যাক। জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর পরিমাণ দিন দিনই বাড়ছে। আর তাই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত মাধ্যমটি হলো ফেসবুক। বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ফেসবুকও নিত্যনতুন ফিচার চালু করছে। ফেসবুক ছাড়াও টুইটার, ইউটিউব, লিঙ্কডইন, পিন্টারেস্ট, টিন্ডারসহ আরও কিছু জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটও আছে এ তালিকায়। এর বাইরে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যানার বিজ্ঞাপনও কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পণ্যের ব্যানার অ্যাড প্রদর্শনের জন্য আছে গুগল অ্যাডওয়ার্ডস, ডাবলক্লিক, ওপেন এক্সসহ বেশ কিছু বিজ্ঞাপনী মাধ্যম। এর বাইরে এসএমএস মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং প্রভৃতিও আছে এই তালিকায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অ্যাপ বা গেমও কিন্তু মার্কেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনলাইনে কিছু খুঁজে পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন। সার্চ রেজাল্টে এগিয়ে না থাকলে কোনো পণ্য সহজে মানুষের কাছে পরিচিতি পায় না। আর তাই সার্চ রেজাল্টে নিজের ওয়েবসাইট বা পণ্যকে সবার সামনে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে রেখেছে।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিশ্ব বাজার

পণ্যের প্রচারণা চালানোর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আগে মানুষ ব্যবহার করত টিভি, রেডিও, সংবাদপত্র প্রভৃতি মাধ্যম। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব জায়গা দখল করে নিতে শুরু করল বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া। টিভির জায়গা দখল করে নিলো ইউটিউব, নেটফ্লিক্সসহ বিভিন্ন অনলাইন বিনোদন পোর্টাল। ফলে বিজ্ঞাপনদাতারাও এদিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করল। অন্যদিকে সংবাদপত্রের পরিবর্তে জায়গা করে নিলো অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো। ফলে বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন দেওয়ার মিডিয়াতেও এলো পরিবর্তন।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের মোট রাজস্ব আয়ের ১০.২ শতাংশ ব্যয় করেছে বিজ্ঞাপনের পেছনে। এই বাজেটের এক তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় করেছিল ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পেছনে। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং বাজেট ১৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে তখন এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছিল সিএমও কাউন্সিল।

২০১৫ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছিল ১০ থেকে ১১ শতাংশ, এমনটাই জানায় গার্টনার। কিন্তু ২০১৬ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং থাকবে মার্কেটারদের পছন্দের শীর্ষে, এ কথাও কিন্তু জানিয়েছে এ বাজার গবেষণা সংস্থাটি। সিএমও সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বাজেট বাড়বে ১১ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে বাজেট বাড়বে ১২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালে ট্রেডিশনাল বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট ২ শতাংশ কমবে বলেও সেখানে বলা হয়েছে। তবে বিজনেস টু কমিউনিটি নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ২০১৭ সালে মোট মার্কেটিং বাজেটের ৩৫ শতাংশই খরচ হবে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পেছনে।

উইন্টারবেরি গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত এক বাজার গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এ বছর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খরচ করবে ৬৮.৬ বিলিয়ন ডলার যা ২০১৫ সালে ছিল ৫৯.৫ বিলিয়ন ডলার।


চলবে.................................

আবার দেখা পরের লেখায়

No comments :

Post a Comment