Sunday, February 26, 2017

Class 002

Hi বন্ধুরা,
কেমন আছো ? আশা করি ভালো আছো আমিও ভালো আছি।
আগের দিন আমরা আলোচনা করেছি DIGITAL MARKET কেন করব?
সেই আলোচনা টা কিছু বাকি ছিল আজ তা আমরা জেনে নিব বাকি টা।
ত চলো শুরু করা যাক।

দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এটি সাশ্রয়ী। এ ছাড়া প্রচলিত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে একটি বিজ্ঞাপন কত মানুষের কাছে পৌঁছেছে, সে ব্যাপারে কোনো ধারণা পাওয়া না গেলেও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এর সম্পূর্ণ হিসেব বা ডেটা পাওয়া সম্ভব। একটি বিজ্ঞাপন কত মানুষ দেখেছে, তাতে কতজন ক্লিক করেছে, এসব কিছুই এখানে পাওয়া যায়। চাইলে এসব বিজ্ঞাপনে একজন ভোক্তা তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারেন যেমনটি আমরা দেখি ফেসবুক বিজ্ঞাপনে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আরও একটি বড় সুবিধা হলো এখানে একটি বিজ্ঞাপন যখন খুশি দেখা যায় কিন্তু প্রচলিত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এটি সম্ভব নয়। দেশে বর্তমান ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত মাধ্যম হলো ফেসবুক। এর বাইরে আছে গুগল, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতি। এর পাশাপাশি অ্যাপ বা গেমের মাধ্যমেও কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিং করা সম্ভব এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সেটি করছে।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলতে গেলে ভারতের ডিজিটাল মার্কেটিং নবজাতক অবস্থায় রয়েছে। মূলত গত ২০১৩ সাল থেকে এ ক্ষেত্রটি বিকাশিত হতে শুরু হয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে দেশে এখনও কোনো পেশাদার, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ গবেষণা হয়নি যা দ্বারা বিষয়টি সম্পর্কে আলোকপাত করা সম্ভব হয়, অর্থাত্ এ ক্ষেত্রটির বর্তমান মার্কেট এর আকার বা পরিমাণ নিয়ে বলা কঠিন। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলব, দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং-এ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলো নিজেদেরকে বিকশিত করার বিভিন্ন উপায় খুঁজে পাচ্ছে এবং এর পেছনে যারা কাজ করে তারা নিজেদের সৃজনশীলতা বিভিন্নভাবে প্রকাশ করতে পারছে। পাশাপাশি গ্রাহক এবং দর্শকদের ব্র্যান্ড কিংবা কন্টেন্ট পছন্দ করার ক্ষেত্রে এসেছে ভিন্নতা এবং বিশালতা। যেকোনো ব্র্যান্ডের পণ্য, সেবার মান ও উপযোগিতার ক্ষেত্রে অন্যান্য গ্রাহকদের মতামত পর্যবেক্ষণ করে সহজেই যাচাই করার সুযোগ থাকে ডিজিটাল ব্র্যান্ডিংয়ের অভিনব কার্যকারিতার মাধ্যমে। প্রথমেই বলতে হবে, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে প্রচার চালানো যায়। ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ও ইন্সটাগ্রামের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। ব্র্যান্ডগুলোর উক্ত প্ল্যাটফর্মসমূহের উপযুক্ত ব্যবহার করা ও সুবিধা নেয়ার বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিপুল সংখ্যক জনসাধারনের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায় ডিজিটাল প্লার্টফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে। সবার কাছে পৌঁছানোর পর এর ফলাফল অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বেশ উপযুক্ত এবং সময়োপযোগী। সকালের সূর্যই পুরো দিনের আভাস দিয়ে দেয় আর ডিজিটাল মার্কেটিং-এর সম্ভাবনা শুরুতেই আলো ছড়ানো শুরু করেছে যা ভবিষ্যতে আলোকিত ফল বয়ে নিয়ে আসবে। অর্থনীতির পরিসর বাড়ছে আর এর সঙ্গে তাল দিয়ে বাড়ছে ব্যবসার ধরন। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নয় বরং দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে আছে বৈচিত্রতা। কোটি টাকার বিনিয়োগই হোক আর এসএমই প্রকল্পই হোক না কেন সবাই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তবে এই খাতের প্রসারের জন্য সারা দেশে ইন্টারনেটের দ্রুত প্রসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত বেশি ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়বে তত বেশি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সফলতা আসবে। প্রচারণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে এই প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর করা শুরু করেছে। দেশের জনসাধারনের জন্য ইন্টারনেটে ডাটা প্যাকেজ মূল্য কমিয়ে এনে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ানো অনেক বেশি জরুরি। ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ানো পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল প্রতিভা প্রকাশের জন্য ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে যা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য ইতিবাচক একটি দিক। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ ডিজিটাল মার্কেটিং-এর জন্য শুধুমাত্র ভালো দিকই না বরং এ প্ল্যাটফর্মটিকে আরো দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম কারণ হলো এটি একটি দ্বিপাক্ষিক বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা। অর্থাত্ এখানে বিজ্ঞাপনের মধ্যেই একজন গ্রাহক বিভিন্ন তথ্য জেনে নিতে পারেন। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যদি ওই পণ্য বা সেবার প্রতি আগ্রহী হন, তাহলে তিনি সেখানে কমেন্ট করতে পারেন এবং বিজ্ঞাপনদাতা কমেন্টটিতে রিপ্লাই করতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এখানে সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয় ফেসবুক। তবে ইউটিউব মার্কেটিংও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। এগুলোর পাশাপাশি এসইও, এসএমএম প্রভৃতিও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ধারণা এখনও বেশ নতুন। বলা যায় গত ৪ বছর ধরে এখানে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছে ৩০টির মতো প্রতিষ্ঠান। প্রথমদিকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্লায়েন্ট ছিল হাতেগোনা। তবে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মার্কেটিং করছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ হলো বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ড এবং বাকিগুলো বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগও আছে এই তালিকায় যারা এই উপায়ে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং ধারণা এখন সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। এর কারণ হলো স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট এখনও সবার হাতে পৌঁছেনি। ফলে মানুষ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য সেভাবে প্রস্তুত না। তবে এরপরও ডিজিটাল মার্কেটিং ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ প্রচলিত বিজ্ঞাপনের তুলনায় ডিজিটাল মার্কেটিং বেশ সহজ। কেউ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে নিজেও কাজটি করতে পারেন যা প্রচলিত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। সেখানে দরকার হয় বড় বাজেট, প্রয়োজন হয় ক্রিয়েটিভ যার জন্য দ্বারস্থ হতে হয় কোনো বিজ্ঞাপনী সংস্থার। দেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ফেসবুক। 

ভারত বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকে ফেসবুক। এর বাইরে যাদের বাজেট একটু বেশি, তার ইউটিউবে ভিডিও মার্কেটিংও করে থাকে। এটা হতে পারে কোনো পণ্যের রিভিউ কিংবা ব্যবহার পদ্ধতি। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার ইনফোগ্রাফিক ব্যবহার করে প্রচারণার জন্য যার মাধ্যমে বেশ ভালো আউটপুট পাওয়া যায়। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বেশ কার্যকর উপায়ে প্রচারণা চালানো যায় বিধায় এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হচ্ছে যা প্রচলিত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এর পাশাপাশি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায় যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান জানতে পারে তাদের বিজ্ঞাপনে কী পরিমাণ ক্লিক হলো, কতজন বিজ্ঞাপনটি দেখল এবং বিজ্ঞাপন থেকে কেমন সাড়া পাওয়া গেল। এই তথ্য ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে যার মাধ্যমে তারা তাদের বিপণন পরিকল্পনা করে থাকে। মূলত ফেসবুকে বিজ্ঞাপন সবচেয়ে বেশি দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের উপর নির্ভর করে লিংকডইন, পিনটারেস্ট, টিন্ডার প্রভৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং এখনও অনেক ক্ষেত্রেই একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যান্ড এখন ধীরে ধীরে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছে। তার বড় প্রমাণ হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য বাজেট বৃদ্ধি। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করছে যা সামনের দিকে আরও বৃদ্ধি পাবে। দেশে বর্তমানে বিজ্ঞাপন বাজারের ৯৮ শতাংশই আছে ট্র্যাডিশনাল বিজ্ঞাপনে, আর বাকি ২ শতাংশ দখল করে আছে ডিজিটাল মার্কেটিং যা আগামী বছর দুয়েকের মধ্যে ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কথা বললে এখানে প্রথমেই আসে ফেসবুকের কথা। ফেসবুক পছন্দের শীর্ষে থাকার কারণ হলো বাংলাদেশের ফেসবুকের বিপুল পরিমাণ সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে যাদের কাছে খুব সহজেই পৌঁছানো সম্ভব। এর পরের অবস্থানেই আছে ব্যানার অ্যাড যার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় গুগলের বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্ম অ্যাডওয়ার্ডস। এর পাশাপাশি ইউটিউব মার্কেটিংও আছে। বিভিন্ন কারণেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ব্র্যান্ডগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এখানে তুলনামূলক কম খরচে প্রমোশন চালানো সম্ভব। এ ছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের এনগেজমেন্ট ভালো হয়ে থাকে। ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হলে যে কেউ সেখানে কমেন্ট করার মাধ্যমে পণ্যটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। চাইলে সেটি তিনি শেয়ারও করতে পারেন যা অন্য কোথাও সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি এখান থেকেই কাস্টমার সাপোর্ট বা ফিডব্যাকও পাওয়া যায়।


বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ফেসবুক। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, টেলিকম প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যাংক এখানে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পেছনে বেশ বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ করছে। এগুলোকে সামনে রেখে কনটেন্ট তৈরির কাজও হচ্ছে এখানে। ট্রেডিশনাল বিজ্ঞাপন থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে খরচ অনেক কম। ক্ষেত্র বিশেষে একটি টিভি বিজ্ঞাপনে যে পরিমাণ খরচ হয়, তা দিয়ে কিন্তু এক বছর ডিজিটাল মার্কেটিং করা সম্ভব। ফেসবুক, টুইটার কিংবা গুগল তো আছেই, এর বাইরে ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দেওয়া কিংবা অ্যাপ বা গেমে বিজ্ঞাপনও দিচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। প্রচলিত বিজ্ঞাপনের তুলনায় এসব বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা বেশি হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন এদিকে ঝুঁকে পড়ছে।

দেশে বর্তমানে বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচারণার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের প্রায় সবাই নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এ ছাড়া তাদের কেউ কেউ আবার ইউটিউব মার্কেটিংও করছে। ট্রেডিশনাল বিজ্ঞাপনের তুলনায় এখানে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন—এখানে কোনো নির্দিষ্ট বয়স কিংবা অঞ্চল টার্গেট করে খুব সহজেই বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় যা টিভি কিংবা সংবাদপত্রে সম্ভব হয় না। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার পর এর সম্পূর্ণ ডেটাও এখানে পাওয়া যায় যা মার্কেটিংয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল মার্কেটিং বিভিন্নভাবে হতে পারে। এটি হতে পারে ফেসবুক, গুগল, গেমস কিংবা অ্যাপের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি অনেকে এখানে ইউটিউবের মাধ্যমেও মার্কেটিং করে থাকে।

আবার দেখা পরের লেখায়
ভালো থেকো সুস্থতা থেকো।






Read more ...

Saturday, February 25, 2017

আজ আমরা জানব ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করব এবং এর চাহিদা কত খানি?


একটি পণ্য বা সেবা তৈরির পর কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেটি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর এই কাজটি সহজে করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ভর করে থাকে বিজ্ঞাপনের উপর। বিজ্ঞাপনের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম হলো টিভি, রেডিও কিংবা বিভিন্ন সংবাদপত্র। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিজ্ঞাপন মাধ্যমেও এসেছে পরিবর্তন। বর্তমানে মানুষ টিভি কিংবা সংবাদপত্রের তুলনায় বেশি ব্যবহার করছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, আর এর সাথে ইন্টারনেট তো থাকছেই। মানুষের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি একটি বড় সময় কাটছে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফলে বিজ্ঞাপনদাতাদের চাহিদায়ও এসেছে পরিবর্তন। এখন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য তাদের পছন্দের শীর্ষে আছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গুগল, ইউটিউব, অ্যাপ প্রভৃতি। এক কথায় যা ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’ নামে পরিচিত।

স্বল্প বাজেটের বিজ্ঞাপনে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এবং নির্দিষ্ট ভোক্তা শ্রেনিকে লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় বলে বর্তমান সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে আগ্রহী হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি আছে প্রায় অর্ধশত। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ করে থাকেন। বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাজেন্সির সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মোট বিজ্ঞাপন বাজারের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দখল করে আছে ডিজিটাল মার্কেটিং।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ডিজিটাল মাধ্যম

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মাধ্যম। যেমন ফেসবুকের কথাই ধরা যাক। জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর পরিমাণ দিন দিনই বাড়ছে। আর তাই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত মাধ্যমটি হলো ফেসবুক। বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ফেসবুকও নিত্যনতুন ফিচার চালু করছে। ফেসবুক ছাড়াও টুইটার, ইউটিউব, লিঙ্কডইন, পিন্টারেস্ট, টিন্ডারসহ আরও কিছু জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটও আছে এ তালিকায়। এর বাইরে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যানার বিজ্ঞাপনও কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পণ্যের ব্যানার অ্যাড প্রদর্শনের জন্য আছে গুগল অ্যাডওয়ার্ডস, ডাবলক্লিক, ওপেন এক্সসহ বেশ কিছু বিজ্ঞাপনী মাধ্যম। এর বাইরে এসএমএস মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং প্রভৃতিও আছে এই তালিকায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অ্যাপ বা গেমও কিন্তু মার্কেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনলাইনে কিছু খুঁজে পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন। সার্চ রেজাল্টে এগিয়ে না থাকলে কোনো পণ্য সহজে মানুষের কাছে পরিচিতি পায় না। আর তাই সার্চ রেজাল্টে নিজের ওয়েবসাইট বা পণ্যকে সবার সামনে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে রেখেছে।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিশ্ব বাজার

পণ্যের প্রচারণা চালানোর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আগে মানুষ ব্যবহার করত টিভি, রেডিও, সংবাদপত্র প্রভৃতি মাধ্যম। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব জায়গা দখল করে নিতে শুরু করল বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া। টিভির জায়গা দখল করে নিলো ইউটিউব, নেটফ্লিক্সসহ বিভিন্ন অনলাইন বিনোদন পোর্টাল। ফলে বিজ্ঞাপনদাতারাও এদিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করল। অন্যদিকে সংবাদপত্রের পরিবর্তে জায়গা করে নিলো অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো। ফলে বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন দেওয়ার মিডিয়াতেও এলো পরিবর্তন।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের মোট রাজস্ব আয়ের ১০.২ শতাংশ ব্যয় করেছে বিজ্ঞাপনের পেছনে। এই বাজেটের এক তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় করেছিল ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পেছনে। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং বাজেট ১৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে তখন এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছিল সিএমও কাউন্সিল।

২০১৫ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছিল ১০ থেকে ১১ শতাংশ, এমনটাই জানায় গার্টনার। কিন্তু ২০১৬ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং থাকবে মার্কেটারদের পছন্দের শীর্ষে, এ কথাও কিন্তু জানিয়েছে এ বাজার গবেষণা সংস্থাটি। সিএমও সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বাজেট বাড়বে ১১ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে বাজেট বাড়বে ১২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালে ট্রেডিশনাল বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট ২ শতাংশ কমবে বলেও সেখানে বলা হয়েছে। তবে বিজনেস টু কমিউনিটি নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ২০১৭ সালে মোট মার্কেটিং বাজেটের ৩৫ শতাংশই খরচ হবে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পেছনে।

উইন্টারবেরি গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত এক বাজার গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এ বছর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খরচ করবে ৬৮.৬ বিলিয়ন ডলার যা ২০১৫ সালে ছিল ৫৯.৫ বিলিয়ন ডলার।


চলবে.................................

আবার দেখা পরের লেখায়
Read more ...